ব্যাটারি নিয়ে চিন্তা শেষ! Realme-এর 15,000mAh ব্যাটারির ফোন আসছে

সম্প্রতি চীনের শেনজেন শহরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রিয়েলমি-এর বার্ষিক ইভেন্ট ‘828 ফ্যান ফেস্টিভাল’। এই উৎসবে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য Realme তাদের গবেষণার দুটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে। এর মধ্যে একটি হলো 15,000mAh এর বিশাল ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন, যা স্মার্টফোন ব্যাটারি প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অন্যটি হলো একটি বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান সহ বিশেষ গেমিং ফোন, যা অতিরিক্ত গরম হওয়ার সমস্যা সমাধানে একটি অভিনব সমাধান নিয়ে এসেছে।

15,000mAh ব্যাটারির ফোন, একটি পোর্টেবল পাওয়ার স্টেশন

এই কনসেপ্ট ফোনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর দৈত্যাকার ব্যাটারি, যা 15,000mAh ধারণক্ষমতার। রিয়েলমি ভাইস প্রেসিডেন্ট চেজ জু-এর মতে, এই ফোনটি একটি সম্পূর্ণ পোর্টেবল পাওয়ার স্টেশনের মতো কাজ করতে পারে। এটি শুধু নিজের জন্য নয়, অন্য ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন বা ওয়্যারেবলস চার্জ করতেও সক্ষম।

কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জে এই ফোনটি দিয়ে একটানা 50 ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও দেখা যাবে, যা প্রায় 25 টি সম্পূর্ণ মুভির সমান। এছাড়াও, 18 ঘণ্টার বেশি ভিডিও রেকর্ডিং, 30 ঘণ্টা একটানা গেমিং এবং পাঁচ দিনের সাধারণ ব্যবহার নিশ্চিত করবে এই ফোন। এমনকি, ফ্লাইট মোডে রাখলে এটি তিন মাস পর্যন্ত স্ট্যান্ডবাই থাকতে পারে।

Gadgets360 এবং GSMArena-এর মতো বিশ্বস্ত টেক নিউজ ওয়েবসাইটগুলির তথ্য অনুযায়ী, এই ফোনের মডেল নম্বর PKP110। এটি অ্যান্ড্রয়েড 15-ভিত্তিক Realme UI 6.0 তে চলে। এতে সম্ভবত MediaTek Dimensity 7300 প্রসেসর, 12GB RAM এবং 256GB স্টোরেজ রয়েছে, যা ভার্চুয়াল RAM প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও 12GB পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। ফোনের পেছনে বড় হরফে “15000mAh” লেখা রয়েছে, যা এর মূল বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে।

‘চিল ফ্যান’ ফোন, গেমিং এর জন্য শীতল সমাধান

দ্বিতীয় কনসেপ্ট ফোনটি বিশেষভাবে গেমিং enthusiasts দের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। রিয়েলমি এটিকে “চিল ফ্যান” ফোন নাম দিয়েছে, কারণ এতে একটি বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান রয়েছে, যা হ্যান্ডসেটটিকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করবে। রিয়েলমি ভাইস প্রেসিডেন্ট চেজ জু এই ফোনটিকে “বিল্ট-ইন এসি” বলে বর্ণনা করেছেন।

See also  4,000 টাকা সস্তা হয়ে গেল OPPO F29 Pro, 8 জিবি র‍্যামের দামে এখন 12 জিবি!

ফোনের বাম দিকে একটি ভেন্ট গ্রিল দেখা যায়, যার মাধ্যমে বাতাস বের হয়। এটি মূলত থার্মোইলেকট্রিক কুলার (TEC), ভেপার চেম্বার এবং বিল্ট-ইন ফ্যানের একটি সম্মিলিত কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করে। রিয়েলমি দাবি করে, এই সিস্টেম ফোনটির কোর তাপমাত্রা 6 ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে সক্ষম, যা প্রচলিত কুলিং পদ্ধতির চেয়ে 2 থেকে 3 গুণ বেশি কার্যকর।

ডিজাইনের দিক থেকে, এই ফোনটি রিয়েলমি GT 7T-এর ক্যামেরা ইউনিটের মতোই দেখতে। এর পেছনে একটি বিশেষ রঙ পরিবর্তনকারী গ্লাস রয়েছে, যা তাপমাত্রার সাথে সাথে সাদা থেকে হালকা নীল এবং আরও গাঢ় নীল রঙে পরিবর্তিত হয়। এটি ব্যবহারকারীকে সহজেই ফোনের তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেয়।

মার্কেট লঞ্চ এবং ভবিষ্যৎ

এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, এই দুটি স্মার্টফোনই বর্তমানে কনসেপ্ট ডিভাইস হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, অর্থাৎ এগুলি এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত নয়। রিয়েলমি এই ডিভাইসগুলি তাদের গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তৈরি করেছে। তাই, কবে নাগাদ এগুলো বাজারে আসবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।

রিয়েলমি-এর এই দুটি কনসেপ্ট ফোন স্মার্টফোন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা দেয়। বিশাল ব্যাটারি এবং উন্নত কুলিং প্রযুক্তি নিয়ে আসা এই ফোনগুলি প্রমাণ করে যে, রিয়েলমি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন সমস্যাগুলির জন্য নতুন এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে গেমিং এবং দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ নিয়ে যেসব ব্যবহারকারী চিন্তিত, তাদের জন্য এই কনসেপ্টগুলি এক নতুন আশার আলো।

আপনার কি মনে হয়, রিয়েলমি-এর এই ধরনের কনসেপ্ট ফোনগুলি কি ভবিষ্যতে মূলধারার স্মার্টফোন বাজারে বিপ্লব আনতে পারবে? এই দুটি ফোনের মধ্যে আপনার কাছে কোন কনসেপ্টটি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়েছে এবং কেন? আমাদের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *